ট্রাম্পের আপত্তি উপেক্ষা করে বৈরুতে হামলা, নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ইসরায়েল
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার দাহিয়েহ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। আল-মরাইযেহ এলাকার একটি ভবন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে।
হামলার পর এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, হিজবুল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের মতে, উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে হামলাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে বৈরুত লক্ষ্য করে নতুন হামলা না চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এরপর ইরানও সতর্ক করে বলেছিল, দাহিয়েহ এলাকায় হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। তেহরানের মতে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং চলমান যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলার আগে ওয়াশিংটনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারি থেকে লেবানন ও হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়ছে। একই সময়ে ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না এবং সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
চলমান সংঘাতের ফলে লেবাননে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
