উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ইরানের সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সম্পদ কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে না।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো অন্য কোনো রাষ্ট্রের সামরিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে কিছু উপসাগরীয় দেশের ভূখণ্ড ও অবকাঠামো ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন স্থাপনা ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
আরাঘচি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে থাকার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক—দুই দিক সামলাতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে চলমান সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো দূরত্বে থাকায় সংকট দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
