ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার দাবি, বর্তমান ‘জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা’ টিকে থাকার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে খামেনি বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান শাসন কাঠামো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং এর স্থায়িত্ব আর দীর্ঘ হবে না। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার গভীর রাতে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। তেহরানের দাবি, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর জবাবে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়। তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজসহ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। উভয় পক্ষের এই সামরিক তৎপরতায় নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। সংস্থাটি জানায়, এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলের হাইফা অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, দেশটির মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
আইআরজিসি আরও বলেছে, চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়তে পারে, তার দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই বহন করতে হবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে যে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু
